খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জনতা ব্যাংক

bnews21.com

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যেসব খেলাপি গ্রাহক দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধে সময় ক্ষেপন করে আসছে তাদের নিকট থেকে ঋণ আদায়ে জিরো টলারেন্সে অবস্থান গ্রহণ করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক লিমিটেড। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

এ পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখার ৩ জন খেলাপি গ্রাহককে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আত্মগোপনে থাকা শাখাটির খেলাপি গ্রাহক মেসার্স আব্দুস সামাদ প্যাকেজিংয়ের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মোট খেলাপি ঋণ ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ শতাংশ হারে ৬৪ লাখ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে আদায় করা হয়। অবশিষ্ট অর্থ আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্যাংকে পরিশোধ করবেন মর্মে অর্থ ঋণ আদালতে বন্ড প্রদান করলে তাাদের জামিন মঞ্জুর হয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের লালদীঘি ইস্ট কর্পোরেট শাখার খেলাপি গ্রাহক নুরজাহান সুপার অয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৮৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা অনাদায়ী থাকায় অর্থঋণ আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া একই শাখার অপর গ্রাহক জেড এন্ড জে ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অনাদায়ী থাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

এ ব্যাপারে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য যেসব খেলাপি গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ পরিশোধে সময়ক্ষেপন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত সবাই দেখতে পেয়েছে।’

এছাড়া সারাদেশে বৃহৎ যেসব ঋণ খেলাপি আছে, তাদের বিরুদ্ধে জোরালো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, দেশে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বেগবান করতে হলে বেশিসংখ্যক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা জরুরি। খেলাপি ঋণ কমানো গেলে বেশিসংখ্যক মানুষকে ঋণ সেবা দেওয়া যাবে। এর ফলে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারের এই নীতির সঙ্গে মিল রেখে জনতা ব্যাংক কাজ করছে।